আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা। স্থানীয় জনগণের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বিবেচনা করে তিনি এ নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার কথা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বাজারে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।
সভায় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি যা বলি, সেটাই করি। আমার এলাকার মানুষের সিদ্ধান্তই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, মার্কা যাই হোক, নির্বাচন করব সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই।’
তিনি বলেন, দেশের অনেক আসনে প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও সরাইল-আশুগঞ্জের মানুষ এখনো জানে না তাদের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী কে। বিষয়টি এই এলাকার মানুষের জন্য হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, গত ১৭ বছরে তিনি কী ভূমিকা রেখেছেন, তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই—মানুষ তা জানে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতেই আমি রাজনীতিতে এসেছি। আপনারা পাশে থাকলে বাংলাদেশ জয় করা সম্ভব।’
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গত দেড় দশকে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। সরকার এবার একটি ভালো নির্বাচন দেওয়ার কথা বলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সেই আশায় বিশ্বাস রাখতে চাই।’
তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের প্রতি কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের আগে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র আইনের আওতায় আনা এবং ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচনী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
প্রায় প্রতি সপ্তাহে এলাকায় আসার কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, সরাইল ও আশুগঞ্জ নিয়ে তার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। এই দুই উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। জনগণের ভোটে সংসদে গেলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।
উল্লেখ্য, বিএনপি এখন পর্যন্ত দুই দফায় ২৭২টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে এখনও কোনো প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়নি। এরই মধ্যে রুমিন ফারহানা কয়েক মাস ধরে এই এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।