রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে (৩৫) দুই দফা মারধর করে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন আসামি মো. জোবায়ের হোসেন (২৯)। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান জানান, বিকেলে আদালত আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেট কারের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি পাবনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা গোলাম কিবরিয়া ১ জানুয়ারি ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার আসামি জোবায়েরকে ৪ জানুয়ারি গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব–১।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, আদালতে হাজির করার পর আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানান। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।
জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে আসামির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জোবায়ের হোসেনসহ কয়েকজন দুই–তিনটি মোটরসাইকেলে করে নাঈম কিবরিয়ার প্রাইভেট কার ধাওয়া করেন এবং বসুন্ধরা আই ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের প্রবেশমুখে গাড়িটি আটকান। গাড়ি থেকে নামার পর জোবায়েরসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ–ছয়জন নাঈমকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, প্রথম দফা মারধরের পর নাঈমকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে আই ব্লকের ১৫ নম্বর সড়কের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অজ্ঞাতনামা আরও সাত–আটজন তাঁকে আবারও মারধর করেন। দ্বিতীয় দফার মারধরের ফলেই নাঈমের মৃত্যু হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার সময় নাঈম একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে সামনে এগিয়ে যান। তাঁকে থামতে বলা হলেও তিনি দাঁড়াননি। পরে তাঁকে আটক করে মারধর করা হয়। এক স্থান থেকে তুলে নিয়ে আবারও মারধর করলে তিনি মারা যান। আসামির সঙ্গে ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচয় ছিল না। তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বশেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে আসামি জবানবন্দিতে দাবি করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মোটরসাইকেলের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের মাথায় নাঈমকে গাড়ি থেকে জোর করে নামিয়ে কিলঘুষি ও মারধর করা হয়। পরে রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে তাঁর খালাতো ভাই রাকিবুল ইসলাম আই ব্লকের ওয়ালটন বাড়িসংলগ্ন ১৫ নম্বর সড়কের মাথা থেকে নাঈমকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।