চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি সাতকানিয়ার চরতী এলাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, তাঁর নামে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই এবং ব্যাংকে কোনো টাকা রাখেননি। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে নিঃস্ব ও অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করেন।
তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, শাহজাহান চৌধুরীর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। হলফনামা থেকে জানা যায়, তাঁর নামে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও একটি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কাছে নগদ রয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার ২৫২ টাকা। ইসলামী ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭১২ টাকা এবং একটি এফডিআরে জমা রয়েছে ৬ লাখ ৬৭৬ টাকা।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮১০ টাকা। একই হিসাবে তাঁর গৃহিণী স্ত্রীর সম্পদ রয়েছে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
হলফনামায় পেশা ও আয়ের বিবরণে তিনি উল্লেখ করেছেন, কৃষিখাত থেকে বছরে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা, ব্যবসা থেকে ৯৬ হাজার ৫৯০ টাকা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে ৬১ হাজার ৪৭১ টাকা এবং চাকরি থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে নয়টি মামলা থাকার তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।
শাহজাহান চৌধুরী প্রথম ১৯৯১ সালে সাতকানিয়া–লোহাগাড়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। এই আসনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল্লাহ চৌধুরী।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ
এদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) শাহজাহান চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রাম–১৫ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান রূপণ কুমার দাশ এই নোটিশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২ জানুয়ারি লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি প্রীতিভোজে অংশ নেন শাহজাহান চৌধুরী। ওই অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতিতে জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান বড়হাতিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জসিম উদ্দিন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিতে লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শাহজাহান চৌধুরী ও জসিম উদ্দিন—উভয়কেই শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে শাহজাহান চৌধুরীকে আগামী সোমবার বেলা ১১টায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যানের অস্থায়ী কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারণা চালানো নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থি। একটি অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এই নোটিশ দিয়েছেন।
এদিকে জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন জানান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে এটি যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে, সে বিষয়ে তিনি সচেতন ছিলেন না। নোটিশের বিষয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জবাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।