সাত মাসে ৬ খুন
সাভারে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০) মানসিক ভারসাম্যহীন নন, বরং ঠান্ডা মাথার এক ‘সাইকো টাইপ’ খুনি—এমনটাই বলছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এক বৃদ্ধা, এক নারী ও এক কিশোরীসহ মোট ছয়জনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাভার থানার সামনে থেকে সম্রাটকে আটক করা হয়। পরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে কিশোরীসহ দুজনের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ সোমবার তাঁকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল আদালত-এ হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
ওই ঘটনায় সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় সম্রাট ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ওই কমিউনিটি সেন্টার থেকেই গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে সাভার থানা চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “সম্রাটকে অনেকেই পাগল মনে করলেও তিনি আসলে পাগল নন। তিনি সাইকো প্রকৃতির একজন মানুষ, যিনি পরিকল্পিতভাবে একে একে ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের প্রত্যেককেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং তিনজনের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, সম্রাট প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটান ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়। এরপর ২৯ আগস্ট কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। একই স্থানে ১১ অক্টোবর এক নারীর এবং ১৯ ডিসেম্বর আরও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যা করে তাঁদের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, কমিউনিটি সেন্টারে নিহতদের বেশির ভাগই ভবঘুরে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট স্বীকার করেছেন, রোববার রাতে সেখানে দেখা পাওয়া আরেক ভবঘুরে নারীকে হত্যার পরিকল্পনাও তাঁর ছিল।
পুলিশ আরও জানায়, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সম্রাট থানা এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন পোশাক পরা ও এলোমেলো কথাবার্তার কারণে স্থানীয়রা তাঁকে মানসিক রোগী ভাবতেন। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, এসব ছিল তাঁর আচরণগত কৌশল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, রিমান্ড মঞ্জুর হলে সম্রাটকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ছয়টি হত্যাকাণ্ড ছাড়াও তাঁর সঙ্গে আরও কোনো হত্যার যোগসূত্র আছে কি না এবং এসব ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে।