ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ভোট চুরি ঠেকাতে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ১১ ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে নিজ নিজ কেন্দ্রের পাহারায় থাকতে হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামে স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আগামীর ১১ ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আপনারা সতর্ক সজাগ থাকবেন, কেউ যেন ভোট চুরি করতে না পারে। আপনারা প্রত্যেকে যার যার কেন্দ্রের পাহারায় থাকবেন।’
নিজ এলাকার দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই অঞ্চল কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন দেখেনি। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আমাকে একটিবার সুযোগ দেন, দেখুন আমি আপনাদের জন্য কী করি। হাঁস হলো সমৃদ্ধির প্রতীক, সৌভাগ্যের প্রতীক। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এবারে ভোটটা হাঁস মার্কায় দেবেন।’
প্রবাসী ভোটারদের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, বিদেশে থাকা এলাকার মানুষদের পাঠানো অর্থে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে প্রবাসীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেবেন, যাতে তারা দক্ষ হয়ে বিদেশে আরও ভালো আয়ের সুযোগ পান।
নিজের পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসন থেকে তাঁর বাবা ১৯৭৩ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিন্তু তখন কাজ করার সুযোগ পাননি।
ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনার একটা ভোট আপনার ভবিষ্যৎ, পরিবারের ভবিষ্যৎ, এলাকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। এত বছর পর নিজের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ এসেছে, এই সুযোগ কোনোভাবেই হেলায় হারাবেন না।’
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচিত হই, পাঁচটা বছর আমাকে সময় দেন। দৃশ্যমান পরিবর্তন করতে পারলে আবার ভোট চাইতে আসব। আর যদি না পারি, কোনোদিনই আপনাদের দরজায় ভোট চাইতে আসব না। আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে হাঁস মার্কার বিজয়ে।’