ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পাগলীরকুল গ্রামে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে রানু আক্তার (রুনা আক্তার নামেও পরিচিত) নামে এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দুই সন্তানের জননী ওই নারী অভিযোগ করেন, তার স্বামী নূর মোহাম্মদ সুমন শিবিরের সক্রিয় কর্মী এবং নিষেধ অমান্য করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে এফিডেভিট করে রোববার অজ্ঞাত স্থান থেকে মুঠোফোনে বিষয়টি কয়েকজনকে জানান সুমন। তবে তিনি বলেন, পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন; ভোটের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
রুনা আক্তার জানান, ভোটের আগের রাতে স্বামী তাকে কোথায় ভোট দেবেন জানতে চাইলে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বলেন। এরপর স্বামী তাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেন। স্বামী বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে তিনি রাজষপুর আলী আজ্জম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। রাতে বিষয়টি জানালে পরদিন ভোরে স্বামী তাকে ও বড় ছেলেকে মারধর করে জমির কাগজপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। পরে প্রতিবেশীদের জানান, আদালতের মাধ্যমে তালাক দিয়েছেন।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নূর মোহাম্মদ সুমন বলেন, ‘পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে সংসার করা সম্ভব না হওয়ায় তালাক দিয়েছি।’ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, রুনা আক্তার ভোটার নন। তার ভাষ্য, ১৫ ফেব্রুয়ারি ফেনী নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাক রেজিস্ট্রি করে ডাকযোগে তালাকনামা পাঠানো হয়েছে।
২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর চিথলিয়া ইউনিয়নের নোয়াপুর গ্রামের নূর আহমেদের মেয়ে রুনা আক্তার মুন্নির সঙ্গে পাগলীরকুল গ্রামের জসীম উদ্দিনের ছেলে নূর মোহাম্মদ সুমনের বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে—মোবারক হোসেন মুরাদ (১০) ও মোহাম্মদ মোস্তাকিম হোসেন (৩)। রাজষপুর বাজারে ‘ভাই ভাই স্টোর’ নামে সুমনের একটি দোকান রয়েছে।
প্রাপ্ত এফিডেভিটের কপিতে দেখা যায়, ১৫ ফেব্রুয়ারি ফেনীর নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে আইনজীবী রবিউল হক রবির স্বাক্ষরে তালাকসংক্রান্ত এফিডেভিট ইস্যু করা হয়। শনাক্তকারী হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মীর মোশাররফ হোসেন মানিকের নাম উল্লেখ রয়েছে। এফিডেভিট নম্বর ১৭০। তালাকনামায় রুনা আক্তারের বিরুদ্ধে সংসারজীবন পালনে অক্ষমতা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও অবাধ্যতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিবেশী কাউসার আলম বলেন, সুমন বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর রুনা বিষয়টি জানান। অপর প্রতিবেশী আবদুল কাদের জানান, রোববার সুমন তাকে ফোন করে আদালত থেকে তালাকনামা পাঠানোর কথা বলেন এবং রুনাকে বাড়ি ছাড়তে বলেন।
ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা সুমনের বাড়িতে যান। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক বলেন, ‘ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অভিযোগে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া নিন্দনীয়।’
এর আগে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে ভোট দেওয়া নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে তালাকের আরেকটি ঘটনা সামনে আসে। তখন সংশ্লিষ্ট নারী ও তার সন্তানদের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তারেক রহমান।