ফেনী জেলা থেকে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর পূর্ণ মন্ত্রী পেল দেশ। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন–এর দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানে ফেনী-৩ (সোনাগাজী–দাগনভূঞা) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
এর আগে জাতীয় পার্টি সরকারের সময় ১৯৮৯-৯০ সালে ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে জাফর ইমাম পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। পরে ১৯৯১ সালে ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া এবং আরও দুবার ওই আসন থেকে নির্বাচিত হন। তাঁর বিষয়টি বাদ দিলে জাফর ইমামের পর এই প্রথম ফেনী থেকে কেউ পূর্ণ মন্ত্রী হলেন।
মিন্টু বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে তিনি ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন ওরফে মানিক পান ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট।

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার খবরে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সন্ধ্যায় উপজেলার বেকের বাজার এলাকায় মিষ্টি বিতরণ ও স্লোগান দেওয়া হয়।
দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আবদুল আউয়াল মিন্টু একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি। তাঁকে মন্ত্রী মনোনীত করায় আমরা আনন্দিত। তাঁর নেতৃত্বে দাগনভূঞাসহ দেশের উন্নয়ন এগোবে বলে আশা করছি।’
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘তিনি পরীক্ষিত নেতা। যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’
শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মিন্টু ১৯৪৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার আলাইয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে চট্টগ্রামের মেরিন একাডেমি থেকে বিএসসি ইন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে মেরিন ট্রান্সপোর্টেশনে উচ্চতর ডিগ্রি ও এমএসসি সম্পন্ন করেন।