চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাত বছরের শিশু ইরাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল।
এর আগে আজ ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ইরার মৃত্যু হয়। গত শনিবার সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতর থেকে তাকে রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি নির্মমভাবে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাড়ি কুমিরার বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এলাকায়। উদ্ধারের স্থানটি তার বাড়ি থেকে প্রায় ৫-৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পুলিশ ধারণা করছে, পরিচিত বা অপরিচিত কেউ শিশুটিকে ফুসলিয়ে নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার উদ্দেশ্যে গলা কেটে ফেলে রেখে যায়।
শনিবার সকালে ইকোপার্কের ভেতরে সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা প্রথম শিশুটিকে কাতরাতে দেখেন। তখন তার গলা থেকে অনবরত রক্ত ঝরছিল। শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের পরনের কাপড় দিয়ে গলা পেঁচিয়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভয়াবহ এই অপরাধের প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এখন তাঁর সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। নিস্পাপ শিশু ইরার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।