জামালপুর শহরে পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ১টার দিকে শহরের দড়িপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করেছে।
নিহত তাহমিনা আক্তার (৩৬) ওই এলাকার আইনজীবী হোসাইন মো. তাইফুরের স্ত্রী। তাঁদের ১২ বছর বয়সী এক ছেলে ও ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭ বছর আগে বিয়ের পর থেকে তাঁদের সংসার মোটামুটি ভালো চললেও সম্প্রতি তাইফুর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার রাতে তাঁদের দুই সন্তান নানাবাড়িতে ছিল। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে গভীর রাতে তাঁদের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া শুরু হয়।
একপর্যায়ে স্ত্রীকে হত্যার পর বিছানার ওপর মরদেহ রেখে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন তাইফুর। ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলেও ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় তাঁরা ঢুকতে পারেননি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে দরজা ভেঙে তাইফুরকে আটক এবং আংশিক দগ্ধ মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের মামা মনোয়ার ইসলাম জানান, তাহমিনা বাবার বাড়িতেই ছিলেন, ঘটনার রাতে তাঁকে দড়িপাড়ার বাড়িতে আনা হয়। তাইফুর মাদকাসক্ত হওয়ার পর থেকেই সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহইয়া আল মামুন জানান, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছুরিকাঘাত ও পরে শ্বাসরোধে তাহমিনাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অপরাধ আড়াল করতে ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। আজ শুক্রবার দুপুরে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। এই ঘটনায় থানায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।