বগুড়া পৌর পার্কে নির্মাণাধীন একটি ব্যায়ামাগারের (জিমনেসিয়াম) ছাদ ঢালাইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ধসে পড়েছে। গত সোমবার (৯ মার্চ) দিনের বেলা ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর রাতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ব্যায়ামাগারটি বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে ওই এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের সংস্কার কাজ চলতে দেখা যায়নি।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় এই ব্যায়ামাগারটি নির্মাণের জন্য ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৫১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত বছরের ২৯ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ১১ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি।
স্থানীয় শরীরচর্চা অনুরাগী মাজেদুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে পৌর কর্তৃপক্ষ এই স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে পার্কে এসে তাঁরা ছাদ ধসে পড়ার দৃশ্য দেখেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভবনটি নির্মাণের পর যদি এই ঘটনা ঘটত, তবে বড় ধরনের প্রাণহানি হতে পারত। মূলত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও নিম্নমানের সামগ্রীর কারণেই এই দশা হয়েছে।’ তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জয় ট্রেডার্স’-এর মালিক জয় হাসান জানান, একটি খুঁটির গোড়ার মাটি সরে গিয়ে সেটি নড়ে যাওয়ায় ছাদের ওপর চাপ পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখানে কাজের মানে কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘ছাদ ধসে পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’