ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করার ঘটনায় মো. হযরত আলী (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রীর ফুফু বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৬ মার্চ। ভুক্তভোগীর পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা গেছে, ২৬ মার্চ রাত ৮টার দিকে ওই কিশোরী বাড়ির পাশের রাস্তায় এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যায়। এ সময় আসামি হযরত ও শাওন আহমেদ (২০) ওই কিশোরীর বন্ধুকে মারধর করে তাকে পাশেই একটি ঘাসখেতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন মামলার অন্য দুই আসামি নয়ন হোসেন (২৩) ও আমিন উদ্দিন (২১)। সেখানে হযরত, শাওন ও নয়ন ওই স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন এবং আমিন উদ্দিন পুরো ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্যমতে, ধর্ষণের ঘটনার পর আসামিরা ওই কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। ভয়ে ওই কিশোরী প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। তবে পরদিন সকালে সে তার ফুফুকে সব খুলে বলে। কিশোরীর বাবা-মাকে জানালে তার বিয়েতে সমস্যা হতে পারে—এমন দুশ্চিন্তা থেকে সে কাউকে কিছু না বলতে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আসামিরা বিভিন্ন মানুষের কাছে ভিডিওটি প্রদর্শন করলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আসামিরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। ভুক্তভোগীর ফুফু ও মামলার বাদী জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রথমে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন মহেশপুর উপজেলার একই গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে শাওন আহমেদ (২০), দিনু মিয়ার ছেলে নয়ন হোসেন (২৩) এবং ফরিদ মিয়ার ছেলে আমিন উদ্দিন (২১)। গ্রেপ্তার হওয়া হযরত আলী একই এলাকার মো. হাফিজুর রহমানের ছেলে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ভুক্তভোগীর ফুফুর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রেকর্ড করে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।