দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় টানা দুদিন ধরে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৪০ ডিগ্রির প্রায় কাছাকাছি। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জেলাজুড়ে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দিনমজুর আব্দুল করিম ও সোহেল রানা জানান, এই গরমে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে; একটু পরপর শরীর দুর্বল হয়ে মাথা ঘুরে যাচ্ছে। ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের মতে, দুপুরের দিকে রাস্তায় বের হওয়া যেমন কষ্টকর, তেমনি রোদের কারণে যাত্রীও মিলছে না।
তীব্র তাপদাহে শহরের পৌরসভা সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের পিচ গলে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়েছে। অসহনীয় গরমে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় ডিউটিরত পুলিশ সদস্য, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে শরবত ও স্যালাইন পান করাতে দেখা গেছে।
প্রচণ্ড এই গরমের মধ্যেই জেলায় জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন তেলের পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আকাশ ইসলাম নামের এক চালক জানান, এই তপ্ত রোদে ৩-৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করা অত্যন্ত অমানবিক ও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলায় বর্তমানে যে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছে, তা আগামী এক থেকে দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আশার কথা হলো, এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমার পাশাপাশি বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।