রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর (২৬) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উত্তর বাড্ডা ১০ নম্বর লেনের ৫৯০ নম্বর বাসার ‘উদয়ন ম্যানশন’-এর ৯ তলার একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বাড্ডা থানা পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মিমোর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সবার অজান্তে তিনি নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত শিক্ষার্থীর মা তাহামিনা আক্তার জানান, মিমোর মরদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। সেই চিরকুটে লেখা ছিল— ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া’। এই চিরকুট উদ্ধারের পর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা জানান, পরিবারের ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোট এবং মিমোর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত মুনিরা মাহজাবিন মিমোর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার ডাইয়ারচর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. গোলাম মোস্তফা। দুই বোনের মধ্যে মিমো ছিলেন পরিবারের মেধাবী সন্তান। তাঁর এই অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুতে সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবার ও সহপাঠীরা।