সারাদেশের বিভিন্ন জনপদের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৩ জন, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও সিরাজগঞ্জে একজন করে মোট ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে সবথেকে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে হঠাত বজ্রপাত হলে ৩ জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২ জন। গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মাহফুজা জান্নাতি বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় রোববার দুপুরে বজ্রপাতে সেলিনা আক্তার নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সৈয়দপুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের ওই বাসিন্দা দুপুরে বাড়ির বাইরে গৃহস্থালি কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় চা বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হয়ে সোহরাওয়ার্দী (৩৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সকালে ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামে কয়েকজন শ্রমিক চা পাতা সংগ্রহের কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে সোহরাওয়ার্দীসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু হয়। আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশেও বজ্রপাতে এক কৃষকের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বিকেল বেলা মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে মাঠে কৃষি কাজ করছিলেন আব্দুল হামিদ (৫০)। সে সময় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হওয়া বজ্রপাতে তিনি মাঠেই মারা যান। কালবৈশাখীর আকস্মিক এই তাণ্ডবে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জনপদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।