নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার হলরুমে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। পরীক্ষা চলাকালীন কক্ষের সিলিং ফ্যান খুলে সরাসরি এক পরীক্ষার্থীর মাথার ওপর পড়লে তার মাথার এক পাশ কেটে গুরুতর জখম হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় ওই কক্ষের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে পরীক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১১ নম্বর কক্ষে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মো. নিয়ামুল হাসান, যিনি দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। তিনি স্থানীয় জাফরুল হুসাইনের সন্তান। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীরা জানিয়েছেন, সবাই যখন পরীক্ষা লিখতে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই বিকট শব্দে সচল ফ্যানটি নিয়ামুলের মাথার ওপর আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছায়। সেখানে নিয়ামুলকে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ব্যান্ডেজ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে অদম্য মনোবল নিয়ে ওই শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেয় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
আহত হওয়ার কারণে চিকিৎসা নিতে নিয়ামুলের যে সময়টুকু অপচয় হয়েছে, তা পুষিয়ে দিতে শিক্ষা বোর্ড ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নিয়ামুলকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় প্রদান করা হয়, যাতে সে তার পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারে। কেন্দ্র সচিব জানান, শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় এবং তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে নির্ধারিত কক্ষেই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষা কেন্দ্রের অনেক কক্ষে এখনো পুরোনো ও জরাজীর্ণ ফ্যান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত অবকাঠামো ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বেগমগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীর সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।