গাজীপুরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় বাবা ও ছেলের জোড়া খুনের চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি মাদক সংক্রান্ত বলে প্রচার করা হলেও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বেড়িয়ে এসেছে এক ভয়াবহ পারিবারিক কলহের চিত্র। নিজের থেকে ১০ বছরের বড় খালাতো বোনকে বিয়ে করার জেদ এবং তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বড় ভাই সাইফুর রহমান সোহান (২৭) তার বাবা ও ছোট ভাইকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে তদন্তকারী দল।
সোমবার টঙ্গী পূর্ব থানা সূত্র জানিয়েছে, রোববার ভোরে উদ্ধার হওয়া মো. সোহেল (৪৮) এবং তার ছোট ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েবের (১৭) মৃত্যুর পেছনে বড় ছেলে সোহান সরাসরি জড়িত। নিহত শোয়েব রাজধানীর উত্তরার একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে ঘাতক সোহান একটি ওষুধ কারখানায় কাজ করতেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের মূল সূত্রপাত ছিল শোয়েবের বিয়ের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, শোয়েব তার চেয়ে ১০ বছরের বড় এক খালাতো বোনকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে পরিবারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। বড় ভাই সোহান এই অসম বিয়ের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিবাদ সৃষ্টি হয়। তাদের বাবা সোহেল এই দ্বন্দ্বে ছোট ছেলের পক্ষ নিলে বিষয়টি সোহানের ক্ষোভকে আরও উসকে দেয়। সেই আক্রোশ থেকেই বড় ভাই প্রথমে ছোট ভাই শোয়েবকে বেঁধে, মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর পর ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সোহান এক পৈশাচিক পরিকল্পনা করেন। তিনি তার বাবা সোহেলকে কৌশলে রেললাইনে নিয়ে যান। সেখানে ট্রেনের ধাক্কায় বাবার মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তিনি আত্মীয়স্বজনদের ফোন করে প্রচার করেন যে, তার বাবা মাদকের টাকার জন্য ছোট ভাইকে খুন করে নিজে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় সোহানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তিনি ভেঙে পড়েন এবং সত্য স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় নিহত সোহেলের বোন শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে। বাবা মাদকে আসক্ত থাকায় তাকে রেললাইনে নিয়ে যাওয়া সোহানের জন্য সহজ হয়েছিল। আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিস্তারিত নিয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করবে পুলিশ।