নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সি শিশু হোসাইনকে নির্মমভাবে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা পুলিশ। কোনো পূর্বশত্রুতা বা ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং ‘জেল খাটতে কেমন লাগে’—এমন অদ্ভুত ও বিকৃত কৌতূহল মেটাতেই কিশোর অপরাধীদের একটি দল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি।
নিহত হোসাইন পেশায় ছিল একজন ফুল বিক্রেতা, যে তার বাবার সঙ্গে শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুল বিক্রি করত। পুলিশ জানায়, গত ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে হোসাইন নিখোঁজ ছিল। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আড্ডা দেওয়া ও মাদক সেবনকারী কয়েকজন কিশোর তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে যায়। পুলিশের দাবি, ওই কিশোররা নিজেদের মধ্যে আলোচনার একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা মানুষ খুনের পর জেলের অভিজ্ঞতা নিতে চায়। সেই বিকৃত ইচ্ছা পূরণ করতেই তারা নিরপরাধ হোসাইনকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
ঘটনার দিন তিন কিশোর মিলে হোসাইনকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত ওই বাড়িটিতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই তাদের আরও তিন বন্ধু অপেক্ষায় ছিল। নির্জন ওই স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর সবাই মিলে হোসাইনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা মরদেহটি সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পুলিশ তদন্তের শুরুতে এক কিশোরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একে একে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন সরাসরি এজাহারভুক্ত আসামি এবং তদন্তের ভিত্তিতে আরও ২ জনকে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১ নম্বর আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এই ভয়াবহ খুনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বর্ণনা দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিটিও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নৃশংস ঘটনায় কিশোর অপরাধীদের মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতি এবং মাদক সেবনের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সামান্য কৌতূহল মেটানোর জন্য একজন শিশুকে এভাবে প্রাণ দিতে হওয়ার ঘটনা পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত আরও একজন আসামি এখনও পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ বিভাগ।