কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা কোনোভাবেই থামছে না। আজ সোমবার দুপুরে পর্যটন নগরী থেকে ঢাকাগামী 'কক্সবাজার এক্সপ্রেস' ট্রেনটি চকরিয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মোহাম্মদ হিমেল আহমেদ (২৫) নামের এক যুবকের চারটি দাঁত ভেঙে গেছে এবং অপর যাত্রী মোহাম্মদ আবু সাঈদ (৪০) ঘাড়ে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন।
রেলওয়ে ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রেনটি কক্সবাজার স্টেশন ছেড়ে আসে। আহত যাত্রীরা নন-এসি ‘ঢ’ বগির ৩৫ ও ৩৬ নম্বর আসনে বসে ফিরছিলেন। ট্রেনটি চকরিয়া এলাকায় পৌঁছালে বাইরে থেকে আকস্মিক একটি পাথর জানালার কাঁচ ভেদ করে ভেতরে চলে আসে। পাথরের আঘাতে হিমেলের নিচের ঠোঁট ফেটে যায় এবং চারটি দাঁত সমূলে উপড়ে যায়। ট্রেনটি চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছালে তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিকে ট্রেনটি পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের সঙ্গে থাকা সাইদুল ইসলাম জানান, তারা দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে ১৮-২০ জনের একটি দল কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। আনন্দভ্রমণ শেষে ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট বা গার্ডের সহযোগিতা পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এমনকি স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানানো হলে উল্টো জানালা খোলা রাখার জন্য যাত্রীদেরই দায়ী করা হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের এই প্রবণতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত এক বছরে এই অঞ্চলে অন্তত ১৪৫ বার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৩৯ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে কক্সবাজার রুট। এই একক রুটেই গত এক বছরে ৩৮টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ১৪ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে এই পথে নিয়মিত চার জোড়া ট্রেন চলাচল করছে এবং জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও নিরাপত্তার অভাব এখন যাত্রীদের জন্য প্রধান উদ্বেগের কারণ।
এ বিষয়ে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, পাথর নিক্ষেপ বন্ধে চকরিয়া-হারবাং এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়াতে রেলওয়ে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকেও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার না মেলায় ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরা।