দেশের তিন জেলা জামালপুর, ময়মনসিংহ ও রংপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার সকাল থেকে বেলা ১১টার মধ্যে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুইজন শ্রমিক এবং একজন নারী রয়েছেন। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জামালপুর জেলায় বজ্রপাতে পৃথক স্থানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন—ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি এলাকার শামীম মিয়া (৩৭) এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সাগর ইসলাম (১৮)। শামীম পেশায় কৃষক ছিলেন এবং সাগর নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে শামীম পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছ ধরতে গেলে বজ্রপাতের কবলে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। প্রায় একই সময়ে সাপধরী ইউনিয়নের ইন্দুল্লামারী এলাকায় সড়ক নির্মাণের কাজ করার সময় বজ্রপাতে সাগরের মৃত্যু হয়। ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল কাইয়ূম গাজী এই দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ভোরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাতটার দিকে বাড়ির পাশের রাংসা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন সাদ্দাম। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তারাকান্দা থানার ওসি তানবীর আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত সংগ্রহ করেছে।
রংপুরের তারাগঞ্জে বজ্রপাতে সাহেরা বেগম (৫০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ির উঠানের আমগাছে বাঁধা গরু গোয়ালে নিতে বের হয়েছিলেন তিনি। সে সময় বজ্রপাতের শিকার হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সাহেরা বেগম সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-ইবাদত হোসেন এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর মধ্যে বর্তমানে গভীর মাতম চলছে। স্থানীয় প্রশাসন এই ধরনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষকে খোলা জায়গা বা নদীর ধারে না যাওয়ার জন্য সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছে।