হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি না দিলে আবারও যুদ্ধে ফেরার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় যেন আবার যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কারণ না হয় এবং এই অবকাশকে যেন শত্রু পক্ষ পুনরায় অস্ত্রসজ্জার কাজে ব্যবহার করতে না পারে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেজাই মার্কিন-ইসরাইলি বাহিনীকে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকার না করলে তারা পুনরায় সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যেন এই সাময়িক বিরতিকে নতুন করে অশান্তি সৃষ্টির সুযোগ হিসেবে না নেয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। সোমবার ওভাল অফিসের বাইরে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, ‘উপযুক্ত ব্যক্তিরা’ একটি চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে কারা ফোন করেছেন বা কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
এর আগে গত রোববার (১২ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এই ব্যর্থতার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে দায়ী করছে। বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরপরই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন, যার লক্ষ্য হলো ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থান ঠেকানো।
মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবরোধ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের শত্রুতামূলক বা উসকানিমূলক পদক্ষেপের জবাবে ইরান ‘জোরালো প্রতিক্রিয়া’ জানাবে। ২২ এপ্রিলের পর যুদ্ধবিরতি নবায়ন হবে নাকি দুই দেশ আবার বড় ধরনের সংঘাতে জড়াবে, তা নিয়ে বর্তমানে চরম আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।