নতুন সরকারের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে চলতি সপ্তাহে ঢাকা সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। বিএনপি সরকার গঠনের পর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের সফর। আগামী ৩ মার্চ দুই দিনের সফরে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে পল কাপুর সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। ৪ ও ৫ মার্চ তিনি বাণিজ্য, অর্থ, জ্বালানি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই সফরের মূল অগ্রাধিকার থাকবে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন। এই চুক্তির আওতায় জ্বালানি ও বোয়িং ক্রয় এবং কৃষিজ পণ্যের বাজার সুবিধা পাওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু—বিশেষ করে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরান প্রসঙ্গও আলোচনায় আসতে পারে।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের ওই চিঠিতে একটি মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শুল্ক সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপিত কিছু শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করায় দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, চুক্তির সব দিক পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে পল কাপুরের সফরটি নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।