মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম এক মাসে দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ানো হয়েছে। মাসের শুরুতে লিটারে ১৭ টাকা বাড়লেও এবার এক লাফে বেড়েছে প্রায় ৯০ টাকা। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন দর ঘোষণা করেছে।
বিইআরসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে এই বিশেষ সমন্বয় প্রয়োজন হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এক মাসে দুই দফায় জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করল কমিশন। নতুন এই বর্ধিত দাম আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা। এর আগে গত ৮ মার্চ ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। গত মাসেও এই জ্বালানির দাম ছিল লিটারপ্রতি ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পর ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় ওই অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আইইএ প্রধানের সতর্কবার্তার পর বিশ্বজুড়ে যে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছিল, জেট ফুয়েলের এই দাম বৃদ্ধি তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতি মাসে নিয়মিত দাম সমন্বয় করা হলেও বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে এই মাসে জরুরি ভিত্তিতে দ্বিতীয়বার দাম বাড়াতে হলো।