এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট পূরণে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সংস্থাটি ৬৭ হাজার ২০৮ জন শিক্ষক ও প্রভাষক নিয়োগে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। নিবন্ধিত প্রার্থীরা আগামী শনিবার থেকে এসব পদে আবেদন করতে পারবেন।
মঙ্গলবার এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে শিক্ষক নিবন্ধন সনদধারী প্রার্থীরা ১৭ জানুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে ‘সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (বিশেষ)-২০২৬’ হিসেবে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে ২৯ হাজার ৫৭১টি, মাদ্রাসায় ৩৬ হাজার ৮০৪টি এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৩৩টি পদে শিক্ষক ও প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রার্থীরা এনটিআরসিএর নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আবেদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে এসব ওয়েবসাইটে শূন্যপদের বিস্তারিত তালিকা ও নিয়োগসংক্রান্ত শর্তাবলি পাওয়া যাবে।
প্রতিটি আবেদনের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। আবেদন জমা দেওয়ার পর ১৮ জানুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত এসএমএসের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। একজন প্রার্থী প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে সর্বোচ্চ সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পদ পছন্দ দিতে পারবেন। পাশাপাশি পছন্দের বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেতে আগ্রহী হলে সে সুযোগও রাখা হয়েছে।
এনটিআরসিএ জানিয়েছে, শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মেয়াদ নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ থেকে তিন বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে। ২০২৫ সালের ৪ জুন পর্যন্ত বৈধ নিবন্ধন সনদধারী এবং যাঁদের বয়স ৩৫ বছরের কম, তাঁরা এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় আবেদন করতে পারবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সমপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া নিয়োগের আবেদন ফরম পূরণের সময়ই প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৬ জুন ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল এনটিআরসিএ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য পদ ছিল ১ লাখ ৮২২টি। এর আওতায় ফল প্রকাশ হয় ১৯ আগস্ট এবং সেখান থেকে ৪১ হাজার ৬২৬ জন শিক্ষককে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ প্রদান করে আসছে। তবে প্রথম এক দশক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির হাতে। পরে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সরকার এনটিআরসিএকে সনদ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ করার ক্ষমতা দেয়।
এরপর ছয়টি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫২৪ জন শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ দিয়েছে এনটিআরসিএ।