সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো (পে স্কেল) নির্ধারণে পে কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, কমিশনের ২১ জন সদস্য বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন এবং শিগগিরই সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, পে কমিশনের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে এগোচ্ছে। বিভিন্ন পক্ষ কমিশনের কাছে মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছে—কেউ লিখিতভাবে, কেউ সরাসরি সাক্ষাৎ করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এসব মতামত ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার এই বেতনকাঠামো ঘোষণা করে যেতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কমিশনে ২১ জন সদস্য রয়েছেন এবং তাঁরা সব দিক বিচার–বিশ্লেষণ করছেন। পাশাপাশি বিচার বিভাগের জন্য আলাদা প্রতিবেদন এবং প্রতিরক্ষা (ডিফেন্স) খাতের জন্য একটি উপকমিটির বিষয়ও রয়েছে।
সাংবাদিকেরা যখন বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথা তুলে ধরেন—যেখানে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে নতুন বেতনকাঠামো সম্ভব নয়—তখন অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘বেতনকাঠামোর বিষয়ে গভর্নরের কিছু বলার নেই। তিনি ব্যাংক–সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত দিতে পারেন। এটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে পে কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান এই কমিশনের প্রধান। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান থাকায় মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ হিসেবে পে কমিশন গঠন করা হয়।