বাংলাদেশকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত আবেদনটিকে তুচ্ছ উল্লেখ করে মামলাকারীর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপের কথাও বলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত জরিমানা করা হয়নি।
বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির সময় এক আইন শিক্ষার্থীর করা ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত প্রশ্ন তোলে—এ ধরনের আবেদন কেন করা হয়েছে। মামলার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ভারতের আইন ও আদালতবিষয়ক পোর্টাল বার অ্যান্ড বেঞ্চ।
দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বুধবার সেই মামলা খারিজ করে দিয়ে বলেছে, “এটা কী ধরনের আবেদন”? এরকম একটি তুচ্ছ রিট আবেদন কেন করা হয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলে মামলাকারীকে বড় অঙ্কের জরিমানা করার কথাও বলেছিল আদালত।
আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ‘সহিংসতা’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া উচিত নয়। সে অনুযায়ী আদালতের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়।
মামলায় প্রতিপক্ষ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছিল ভারতের ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড, আইসিসি, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
শুনানিতে আদালত বলেন, আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন বন্ধ করতে বাংলাদেশ, আইসিসি বা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের নেই। একইভাবে অন্য একটি দেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক কেমন হবে, সে বিষয়েও আদালত নির্দেশ দিতে পারে না।
আদালত আরও প্রশ্ন তোলে, বাংলাদেশে তদন্ত চালানো বা সেখানে কোনো নির্দেশ কার্যকর করা কি এই আদালতের পক্ষে সম্ভব।
‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় আবেদনকারী দেবযাণী সিং-কে বলেন, এ ধরনের মামলা দায়েরের জন্য এমন দণ্ড আরোপ করা হবে, যাতে অন্যদের জন্য তা দৃষ্টান্ত হয়।
এরপর আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতকে জানান, তাঁরা আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। ফলে মামলাটি খারিজ করা হয় এবং জরিমানা আরোপ করা হয়নি।