ভারতসহ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সমতার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বর্তমান সরকার। তবে ভৌগোলিক বাস্তবতায় ভারতকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর বিশেষ কোনো দেশের প্রতি সরকারের ঝোঁক রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা কোনো বিশেষ দেশের প্রতি ঝুঁকছি না। “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই নীতি মাথায় রেখে আমাদের অর্থনীতি ও সমাজনীতি সাজানো হবে। সব দেশের সঙ্গেই নির্দিষ্ট শর্ত ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে কথা বলবে সরকার।’
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়টি জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা সংসদকে কার্যকর করতে চাই। জাতীয় সংসদই হবে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল জায়গা এবং সেখানেই সবকিছু আলোচিত হওয়া স্বাভাবিক।’
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশীকে কেউ উপেক্ষা করতে পারে না। তবে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে সমতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মানের ভিত্তিতে। দেশের একজন মানুষের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়, এমন কোনো শর্তে আমরা কারও সঙ্গে চুক্তিতে যাব না।’
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোকে বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান সহজ নয় উল্লেখ করে এ বিষয়ে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আশ্বাস দেন তিনি।