ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে এই পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিচারপতি রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে একটি অভিযোগের কার্যক্রম চলমান ছিল। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৪ নভেম্বর শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর আবেদন করেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদনটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সূত্রমতে, অভিযোগের বিষয়ে গত ১০ ডিসেম্বর বিচারপতি রেজাউল হাসান কাউন্সিলে লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন। সবশেষ গত ২৯ মার্চ তিনি কাউন্সিলে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারী চাইলে ২০১৭ সালেই এ বিষয়ে নালিশ করতে পারতেন, এখন এই নালিশ আর গ্রহণযোগ্য নয়। তবে বিচার বিভাগীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যধারা শুরু হয়নি।
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করা রেজাউল হাসান ১৯৮৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০৪ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৯ সালের ৩০ জুন তিনি হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১১ সালের ৬ জুন স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।