প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামী ৭ এপ্রিল ভারতের নয়াদিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই সফরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং ভারত থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
মরিশাসে ভারত মহাসাগর সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৮ এপ্রিল তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এছাড়া অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গেও তাঁর আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিকল্প হিসেবে ভারত থেকে পাইপলাইন বা অন্য উপায়ে বাড়তি জ্বালানি আনার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এই সরবরাহ বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলায় দুই দেশের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে জলবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন শুরু করেছে। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ মেয়াদে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের জন্য বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের পক্ষে ভারতের সমর্থন চাইতে পারেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমানের এই সফর দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।