বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ব্যয় সংকোচনের একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এসব পদক্ষেপের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাঁদের সরকারি গাড়ির জন্য বরাদ্দ করা মাসিক জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম ব্যবহার করবেন। পাশাপাশি, সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য প্রচলিত সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সরকারি খাতের গাড়ি, জলযান ও আকাশযান কেনাও আপাতত শতভাগ বন্ধ থাকবে। তবে পরিবেশদূষণ কমাতে নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শুল্কমুক্ত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ শুল্কে নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও একই সময়ে চলবে, তবে ব্যাংকিং সেবা মিলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত। জরুরি সেবা ছাড়া সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ব্যয়ের লাগাম টানতে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয়ও ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ এবং ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশব্যাপী আগামী তিন মাস সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত কর্মকৌশলের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শিল্প উৎপাদন, কৃষি সেচ ও সারের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এসব খাতে জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তথ্য বিবরণীতে আরও জানানো হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী বৈঠকে প্রস্তাব পেশ করবে। সরকারি এই কৃচ্ছ্রসাধন কার্যক্রম সফল করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।