দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সেশনজট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে ২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এই পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের অনেকটা আগেই অর্থাৎ ওই বছরের ডিসেম্বর মাসেই অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী স্তরে ভর্তি প্রক্রিয়ার মাঝে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান থাকছে। অক্টোবরে ফলাফল প্রকাশের পর জানুয়ারিতে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে প্রায় এক বছরের সেশনজট তৈরি করছে। এই দীর্ঘ বিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং তাদের বিনা প্রয়োজনে কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত গ্যাপ বা বিরতি কমিয়ে আনতেই সরকার এখন থেকে ‘ডিসেম্বর’ মাসকে পরীক্ষার মাস হিসেবে গণ্য করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
ড. এহছানুল হক মিলন আরও জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দুই বছরের পাঠ্যক্রম যেন নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যেই শেষ হয়। সিলেবাস সম্পন্ন হওয়ার পরপরই পরীক্ষা গ্রহণ এবং এর দ্রুততম সময়ের মধ্যে উচ্চতর শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষাও এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরো শিক্ষা ক্যালেন্ডারকে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যেন কোনো পর্যায়েই ছাত্রছাত্রীদের সেশনজটের কবলে পড়তে না হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে সমন্বয়ের বিষয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ফলাফল প্রকাশের পরপরই যেন পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা যায়, সে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সেশনজট কমবে, অন্যদিকে কোচিং বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য থেকেও শিক্ষার্থীরা মুক্তি পাবে। শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এর আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে একটি স্বচ্ছ, আধুনিক ও যুগোপযোগী বদলি নীতিমালা দ্রুত কার্যকর করা হবে, যা শিক্ষা প্রশাসনের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।