ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এবং নেপথ্যে থাকা শক্তির বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে জোটটি।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটের নেতারা বলেন, ওসমান হাদির শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সারা দেশে তাঁর সহযোদ্ধাদের প্রতি তারা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছেন। পাশাপাশি ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে উচ্ছৃঙ্খলতা দেখা দিয়েছে, সেটিকেও নিন্দা জানায় জোট।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নিয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত কাইয়ূম ও মজিবুর রহমান মঞ্জু যৌথ বিবৃতিতে বলেন, পরাজিত ও পলাতক হাসিনার খুনি-সন্ত্রাসী, ভারতীয় আগ্রাসনবাদী এবং দেশের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দোসরেরা মিলিতভাবে দেশে চরম অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। তারা দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে বানচাল করতে এবং একটি অগণতান্ত্রিক তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটাতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই উসকানির ফলেই বৃহস্পতিবার রাতে একাধিক পত্রিকা অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কূটনীতিকের বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পক্ষশক্তি নূরুল কবীরকে নাজেহাল করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানান জোটের নেতারা। একই সঙ্গে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে শোকাহত জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, খুনি, সন্ত্রাসী ও দেশবিরোধী শক্তির উসকানিতে পা না দিয়ে দায়িত্বশীলতা ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
বিবৃতিতে ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।