হামলা, কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন শরীয়তপুর–৩ আসনে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ। প্রচার শুরুর পর থেকে তিনি সব মতের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শরীয়তপুর–৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন নুরুদ্দিন আহাম্মেদ। সে সময় প্রচারের প্রথম দিনেই তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। কয়েক দিন পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে জামিনে মুক্তি পান।
গোসাইরহাট, ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর–৩ আসনে এবার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। এই আসনে অতীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়ে আসছেন।
ঢাকার জগন্নাথ কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে নুরুদ্দিন আহাম্মেদের রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তিনি গোসাইরহাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। ভোটারদের সঙ্গে বসে কথা বলছেন, চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন, বাজারে ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা শুনছেন। রোববার সকালে কুচাইপট্টি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দুপুরে উপজেলা স্টেডিয়ামে একটি ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধন করেন। বিকেলে নাগেরপাড়া বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি নির্বাচনী সভায় যোগ দেন তিনি।
প্রচারণা সম্পর্কে নুরুদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। কৃষি ও মৎস্যনির্ভর অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী এই প্রার্থী বলেন, সব প্রার্থীই সমানভাবে প্রচারের সুযোগ পাচ্ছেন। ভোটাররা যাকে পছন্দ করবেন, তাকেই ভোট দেবেন বলে তিনি মনে করেন।
বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের অংশগ্রহণে নুরুদ্দিন আহাম্মেদের প্রচারণা জোরদার হয়েছে। তিনি নিজেও দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।