ময়মনসিংহ নগরীতে ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে এক বিএনপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, মহানগর জামায়াতের এক নেতার ছেলে হামলায় জড়িত ছিলেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙ্গের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় রানা মিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রানা মিয়া পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার একটি বাগবিতণ্ডার জেরে মঙ্গলবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হলে রানা মিয়া গুরুতর আহত হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজন মাহাবুব দাবি করেন, পূর্বের রাজনৈতিক বিরোধের ধারাবাহিকতায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার অভিযোগ, ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মাহিনসহ ৫০-৬০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায় এবং মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকে আঘাত করেন।
নিহতের বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত মাহিনের বাবা মফিদুল ইসলাম মাস্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি বা তার ছেলে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এদিকে, ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল এহসান ইমরুল বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়; বরং পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত বিরোধের জের ধরে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।