ভোটারদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ
ভোটারদের এক দিনের ক্ষমতাই জনপ্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের ক্ষমতার ভিত্তি—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ভোটের দিনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে ভবিষ্যতের রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থায় তার প্রতিফলন ঘটবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ‘আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে দেবীদ্বারের ভিরাল্লা এলাকায় এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে একই কর্মসূচির আওতায় জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। কর্মসূচিতে স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনাদের হাতে সুযোগ এসেছে। যারা জনপ্রতিনিধি, তাদের হাতে পাঁচ বছর ক্ষমতা থাকে। কিন্তু আপনাদের এক দিনের ক্ষমতায় তারা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। তাই আপনাদের এক দিনের ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।’ তিনি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন। বলেন, ‘এবার আপনারা কেন্দ্র পাহারা দেবেন। কেউ কেন্দ্র দখল করতে আসলে তাদেরকে প্রতিহত করবেন।’
ভোটে অর্থের প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘নেতা একদিন টাকা নিয়ে আপনার পেছনে ঘুরলে আপনাকে পাঁচ বছর টাকা নিয়ে নেতার পেছনে ঘুরতে হবে। এবার আপনারা টাকার কাছে বিক্রি হবেন না। যিনি টাকা দিতে আসবেন, তাঁকে প্রত্যাখ্যান করবেন।’ তিনি যোগ করেন, ‘ইনসাফের জন্য, দুর্নীতি ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য এবার আমরা ভোট দেব। আপনারা যাঁকে ইচ্ছা ভোট দেবেন, তবে যাঁরা দুর্নীতিবাজ, তাঁদের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা টেন্ডারবাজি করে, মামলাবাজি করে, তাদের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন।’ একই সঙ্গে এলাকায় অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘কেউ অপরাধ করলে তাকে ধরতে হবে। দেবীদ্বারে যারা অবৈধভাবে নদীর চরের মাটি কাটে, দুর্নীতি করে, মাদকের সিন্ডিকেট চালায়, তাদের বিচার হতে হবে।’
নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও আইনের প্রয়োগের কথা উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমার বাবাও যদি অবৈধভাবে মাটি কাটে, তার বিচার হতে হবে।’ তিনি দেবীদ্বারের ইটভাটার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এলাকায় ২২টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র আটটির পরিবেশগত অনুমোদন রয়েছে, বাকি ভাটাগুলো রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের জোরে চলছে। ‘এবার আমরা ভোটের মাধ্যমে তাদের লাল কার্ড দেখাব,’—বলেন তিনি।