ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভুঞা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্ত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি ত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে দাখিলকৃত হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। পেশায় ব্যবসায়ী মিন্টুর মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। নিজের নামে নেই কোনো ঋণ। তবে তার সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৯৪ কোটি টাকা ঋণের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
দাখিলকৃত হলফনামায় দেখা গেছে, তার স্থাবর সম্পত্তির বাজার মূল্য ৩৩৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। তার মধ্যে অকৃষি জমি ৭ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা, আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন ৪২ লাখ ৫২ হাজার টাকা এবং অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ৩০ লাখ ৪২ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, ১৭৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার। তার মধ্যে রয়েছে নগদ ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১ কোটি ৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। তা ছাড়া বন্ড, ঋণপত্র ও স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ১৫১ কোটি ৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার। সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, ডাক সঞ্চয়পত্র এবং ক্রিপটোকারেন্সি বিনিয়োগ ৭৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
হলফনামায় নিজেকে ব্যবসায়ী উল্লেখ করলেও আয়ের উৎসে ব্যবসা খাত থেকে কোনো ধরনের আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি। ২০২৫-২৬ বর্ষে আয়কর রিটার্নের তথ্য অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমাণ ১১৬ কোটি ৯০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। আয়ের পরিমাণ ১ কোটি ১২ লাখ টাকা। বিপরীতে তিনি আয়কর প্রদান করেছেন ৩৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
আব্দুল আউয়াল মিন্টুর হলফনামায় তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালকে ব্যবসায়ী উল্লেখ করে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ দেখিয়েছেন ৯৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। তার তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, মেজো ছেলে তাফসির মোহাম্মদ আউয়ালের ৪৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা ও ছোট ছেলে তাজোয়ার মোহাম্মদ আউয়ালের সম্পদ দেখানো হয়েছে ২৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ইতিপূর্বে ২৬টি মামলায় অভিযুক্ত থাকলেও সবকটিতে খালাস পেয়েছেন। তবে রাজধানীর সিএমএম আদালতে আরেকটি মামলা রয়েছে। এ মামলায় ২০০৭ সালে তিনি জামিন লাভ করেন। বর্তমানে মামলাটি স্থগিত রয়েছে।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন স্নাতকোত্তর পাস।