র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সেখানে অবৈধভাবে বসবাসকারী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র্যাব-৭-এর প্রধান কার্যালয়ে হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের জানাজা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে মোতালেব হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুবেদার মোতালেব শহীদ হয়েছেন। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ ঘটনায় একটি মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি র্যাবের পক্ষ থেকে নজরদারিতে রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, মোতালেবের পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। একজন স্ত্রী তার স্বামীকে এবং সন্তানরা তাদের পিতাকে হারিয়েছে। এ ক্ষতি পূরণ সম্ভব নয়, তবে নিহতের পরিবারের দায়িত্ব র্যাব গ্রহণ করবে এবং তাদের পাশে থাকবে।
এর আগে সোমবার জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় র্যাবের আরও তিন সদস্য ও মনা নামে একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। নিহত মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র্যাবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে ইয়াসিনের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। এ উপলক্ষে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়। এদিকে রুকন গ্রুপের অনুসারী ও র্যাবের সোর্স মনা র্যাবকে জানান, ওই অনুষ্ঠানে ইয়াসিন উপস্থিত থাকবেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম র্যাবের পতেঙ্গা কোম্পানির একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য যায়।
বিকেল পৌনে ৪টার দিকে অভিযানে যাওয়া র্যাব সদস্যদের ওপর ইয়াসিন গ্রুপের অনুসারীরা হামলা চালায়। একপর্যায়ে র্যাবের চার সদস্য ও সোর্স মনাকে আটকে রাখা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং স্থানীয় একটি পক্ষের সহায়তায় গুরুতর আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।