বগুড়ায় চাঁদাবাজি ও অর্থ আত্মসাৎ মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব মিজানুর রহমানকে (সাগর) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই নৈতিক স্খলন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে মিজানুর রহমানকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে এনসিপির জেলা শাখা।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানান, মিজানুর রহমান একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শহরের জলেশ্বরীতলা কালীমন্দির এলাকা থেকে সদর থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আজ শনিবার দুপুরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে রুবেল প্রামাণিক নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন মিজানুর রহমানসহ আরও কয়েকজন। ভুক্তভোগী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৫১ হাজার ১০০ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় রুবেল প্রামাণিক বাদী হয়ে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন।
এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান মিজানুরের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি মূলত ব্যবসায়িক লেনদেনের জেরে সৃষ্ট টাকাপয়সা নিয়ে দ্বন্দ্বের একটি মামলা।
এদিকে, আজ শনিবার রাত আটটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মিজানুর রহমানকে সাময়িক অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এনসিপি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চাঁদাবাজি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আসা এবং এ বিষয়ে সংগঠনকে আগে থেকে অবহিত না করে তথ্য গোপনের দায়ে তাঁকে এই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাঁকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা লিখিতভাবে জানানোর জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশও পাঠানো হয়েছে।