যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ ও নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি হোসেইনি খামেনিকে নিশানা করা হতে পারে—এমন গুঞ্জনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, সর্বোচ্চ নেতা কোনো বাঙ্কারে লুকিয়ে নেই এবং স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুম্বাইয়ে নিযুক্ত ইরানের কনসাল জেনারেল সাঈদ রেজা মোসায়েব মোতলাঘ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও একের পর এক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকলেও আয়াতুল্লাহ খামেনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন এবং নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে যে বিক্ষোভ হয়েছে, তাতে কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার উসকানি ছিল। নিষেধাজ্ঞার হুমকি থাকা সত্ত্বেও ইরান ও ভারত পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মোসায়েব মোতলাঘ বলেন, ইরানকে সংকটগ্রস্ত রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংযম ও নমনীয়তা দেখিয়েছে। তবে ওই সময়ের পর বিদেশে অবস্থানরত ‘নিয়ন্ত্রক শক্তি’ ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নির্দেশনা দেওয়া শুরু করলে সহিংসতা বাড়ে।
তিনি দাবি করেন, ওই সহিংসতায় বড় ও ছোট শহরে নাশকতা চালানো হয়, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের হিসাবে, এসব ঘটনায় মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৬৯০ জন সন্ত্রাসী।
মোসায়েব মোতলাঘ বলেন, বিক্ষোভে বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ ছিল না বা খুবই সীমিত। তবে ইরানের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—অনেক বিক্ষোভকারীকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রশিক্ষণ দিয়েছে অথবা আন্তর্জাতিক প্রচারণার প্রভাবে তারা সহিংসতায় জড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা, বিশেষ করে বিমানবাহী রণতরী পাঠানো প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ইরান সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর দাবি, ইরান অতীতেও আগ্রাসনের জবাব দিতে সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে—এর উদাহরণ হিসেবে তিনি গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পুলিশ ও সাধারণ জনগণের সহায়তায় সাম্প্রতিক অস্থিরতা দুই দিনের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। একইভাবে, ভবিষ্যতে কোনো শক্তি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিলে দেশটি আত্মরক্ষায় পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করবে।
খামেনি জনসমক্ষে না এসে বাঙ্কারে লুকিয়ে আছেন—এমন গুজব প্রসঙ্গে কনসাল জেনারেল বলেন, সর্বোচ্চ নেতা ভিডিও কনফারেন্সসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিতভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। তাঁর নিরাপত্তায় নিরাপত্তাকর্মী থাকা স্বাভাবিক বিষয়, যেমনটি বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়।
তিনি বলেন, কোনো বিদেশি শক্তিকে ভয় পায় না ইরান। খামেনির অবস্থান নিয়ে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।