সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরমাণু আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরি ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মঙ্গলবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বলে দাবি করা হলেও তারা এমন ‘চপেটাঘাত খেতে পারে, যা থেকে তারা আর সেরে উঠতে পারবে না’।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ শিগগিরই এই অঞ্চলে পাঠানো হবে। ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘তারা বারবার বলছে যে ইরানের দিকে রণতরি পাঠানো হয়েছে। বেশ তো, রণতরি অবশ্যই একটি বিপজ্জনক যন্ত্র, কিন্তু রণতরির চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা একে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে।’
চলমান পরমাণু আলোচনা প্রসঙ্গে খামেনি মন্তব্য করেন, আলোচনা চলাকালে আগেই এর ফলাফল নির্ধারণ করে ফেলা ‘ভুল ও বোকামি’। এর আগে গত রোববার ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভিও সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য একটি ‘শিক্ষা’ হয়ে থাকবে।
এদিকে ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধিদল এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। তারা ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর দীর্ঘ আট মাস আলোচনা স্থগিত ছিল। চলতি মাসের শুরুর দিকে মাসকাটে পুনরায় এই পরোক্ষ কূটনীতি শুরু হয়। তবে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে গত মাসেই পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে যুদ্ধের ছায়া নিয়েই বর্তমানে এই আলোচনা চলছে।