ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে তেহরানকে দমনে একাধিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিকল্প রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কঠোর শর্ত মানতে অস্বীকার করে, তবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পুত্র মোজতবা খামেনিসহ শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা বা তাদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়, কয়েক সপ্তাহ আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে টার্গেট করার এই নীল নকশা ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে পেন্টাগন সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকলেও ওয়াশিংটন এখনো একটি সমঝোতার পথ খোলা রেখেছে। শর্তসাপেক্ষে ইরানকে সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে সেক্ষেত্রে পারমাণবিক বোমা তৈরির সব পথ চিরতরে বন্ধ করার নিশ্চয়তা দিতে হবে তেহরানকে।
মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ইরানের পক্ষ থেকে আসা যেকোনো প্রস্তাবকে অত্যন্ত কঠোর মানদণ্ডে যাচাই করা হবে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোও সন্তুষ্ট থাকে। অন্য একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সামরিক সংঘাত এড়াতে হলে ইরানকে এমন প্রস্তাব দিতে হবে যা যুক্তরাষ্ট্র ফিরিয়ে দিতে পারবে না। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর বৃহত্তম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইসরায়েলও এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যৌথ সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ কিছু ‘নির্দেশক নীতিতে’ একমত হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে একটি খসড়া পাল্টা প্রস্তাব তৈরি করা হবে। জেনেভা আলোচনায় ওয়াশিংটন ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ দাবি করেনি এবং ইরানও সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি স্থগিতের প্রস্তাব দেয়নি। তেহরানের লক্ষ্য হলো পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ রেখে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো। তবে ট্রাম্প যেকোনো মুহূর্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো সতর্কবার্তা দিয়েছে।