ইরান থেকে আসা একাধিক ড্রোনের আঘাতে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দ্য ডিরেক্টোরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের (ডিজেসিএ) বিবৃতির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে টাইমস কুয়েত।
ডিজিসিএ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আঘাত হানে। এতে বিমানবন্দরের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ শুরু করেছে।
এই হামলার প্রেক্ষাপট হিসেবে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সাম্প্রতিক ব্যর্থ সংলাপকে দায়ী করা হচ্ছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ২১ দিনব্যাপী সেই আলোচনা গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই অভিযানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ইসরায়েলও ইরানে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক আক্রমণ শুরু করে।
যুদ্ধের শুরুর দিকেই গত ২৮ অক্টোবর ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও অন্তত ৪০ জন শীর্ষ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্থাপনায় দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে।
ইসরায়েলের পাশাপাশি সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো এখন ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কুয়েত বিমানবন্দরের ওপর হামলাকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধেরই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।