আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। রোববার (১৫ মার্চ) রাতে সীমান্তসংলগ্ন আফগান এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, কান্দাহার প্রদেশে আফগান তালেবান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সরঞ্জাম গুদাম এবং একটি সুড়ঙ্গ ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তালেবান সরকার পাকিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আফগানিস্তানের স্থানীয় সূত্রগুলো কান্দাহারে যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি ও বিস্ফোরণের শব্দের কথা নিশ্চিত করেছে। একই সময়ে সীমান্তবর্তী স্পিন বালদাক ও খোস্ত প্রদেশেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তানের হামলায় কান্দাহারে কেবল একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র ও একটি খালি কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে আফগানিস্তানে চলমান সহিংসতায় ১৮৫ জন বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এদিকে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের এই বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। তবে পাকিস্তান এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে পাল্ট অভিযোগ করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি দাবি করেন, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ভারত সমর্থন দেয় এবং তাদের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ভারত হতাশা প্রকাশ করছে।