যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ওয়াশিংটনের নীতিকে এক হাত নিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘একমুখী, আগ্রাসী ও উসকানিহীন’ হামলার কৌশলটি ‘চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ’ হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাখারোভা বলেন, “আরও আক্রমণাত্মক হওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিজয় খুব কাছে’—এমন প্রচারণার মাধ্যমে যে দাপট দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, তা আবারও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো।” তিনি আরও যোগ করেন যে, রাশিয়ার অবস্থান শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিল—ইরানের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করে একটি বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। মস্কো বিশ্বাস করে, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অভিযানে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ প্রায় ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করে তেহরান।
এমন চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তিনি ইরানের ওপর হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন। মূলত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই শান্তি প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। রাশিয়ার মতে, এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চলছে, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।