সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতন–ভাতার সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন আগামীকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) জমা দেবে বেতন কমিশন। কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে কাল বিকেল পাঁচটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।
সচিবালয়ে আজ দুপুরে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তবে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগপর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বেতন কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। পুরো মাত্রায় এই কাঠামো কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেতন কমিশনের প্রতিবেদন প্রথমে অর্থ উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়ার কথা ছিল। পরে তা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে এখন প্রতিবেদন সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় জমা দেওয়া হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবেদনটির বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮ হাজার টাকা থাকলেও নতুন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশও করা হয়েছে।
এদিকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বেতনকাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় নিচের দিকের বেতন–ভাতা তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে।
গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণে ২১ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রধান সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা ছিল।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন–ভাতা পাচ্ছেন। দেশে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ।