দেশকে টিকিয়ে রাখতে দুর্নীতি, মাদক ও জুয়া বন্ধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কঠোর পরিশ্রম ও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, তদারকি শুধু অফিসে বসে করা যায় না। জনগণের কাছে যেতে হবে। সিভিল সার্জন, ওসি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যে যার রাজনৈতিক মতাদর্শে থাকুক না কেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে এর জন্য বড় মূল্য দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো বাড়ি বা স্থানে মাদক সেবনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক, চুরি, ডাকাতি ও ধর্ষণের মতো অপরাধের যোগসূত্রও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
পুলিশকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচারকে সরকারের সফলতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় উন্নয়ন হয়নি। তার দাবি, ফরিদপুর ও বরিশালে প্রায় ১৮ কোটি টাকা করে কেনা দুটি এমআরআই মেশিন দীর্ঘদিন ধরে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। জনবল ও টেকনিশিয়ান না থাকলেও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়িয়ে শতভাগে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। রোগীদের কাছ থেকেও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব হাসপাতালে নারী ও শিশুদের জন্য পৃথক শয্যার পাশাপাশি ডায়ালাইসিস সুবিধা থাকবে।
এ ছাড়া মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার কাজ চলছে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে হেলথ সেন্টার স্থাপন করা হবে। সেখানে এমবিবিএস চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকবে। চিকিৎসকদের জন্য ডরমেটরি থাকবে এবং তাদের সেখানে অবস্থান করতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হলো স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে মানুষের অধিকার ও জনসেবা নিশ্চিত করা।
সভায় মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্তসহ জেলার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।