সরকারি মাটি নিলামের টাকা ভাগাভাগি, হাট ইজারা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যশোরের মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের তিন নেতার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দলীয় তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর জেলা জামায়াত এ সিদ্ধান্ত নেয়।
পদ স্থগিত হওয়া নেতারা হলেন— মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম এবং পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেন।
শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি দায়িত্বশীল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, আহসান হাবিব লিটন ও ফারুক হোসেনকে দুই মাসের জন্য এবং মহিউল ইসলামকে তিন মাসের জন্য দলীয় পদ থেকে স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলা আমির ফজলুল হক ঢাকায় অবস্থান করায় জেলা জামায়াতের সিদ্ধান্তটি বৈঠকে পড়ে শোনান উপজেলা সেক্রেটারি খলিলুর রহমান।
গত ৩০ এপ্রিল মণিরামপুরে হরিহর নদ খননের উত্তোলিত মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আহসান হাবিব লিটন ও মহিউল ইসলামও ছিলেন।
ঘটনার পর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আরশাদুল আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মালেক।
তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে জানা যায়, গত সংসদ নির্বাচনে মণিরামপুর আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, গরুর হাট ইজারা নিয়ে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ উপার্জনের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ৩০ এপ্রিলের সংঘর্ষের ঘটনায় এই তিন নেতার সংশ্লিষ্টতার তথ্যও তদন্তে উঠে আসে।
পদ স্থগিতের বিষয়ে জানতে আহসান হাবিব লিটনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ‘দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাই না।’
তবে ঘটনা নিশ্চিত করে জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও তদন্ত কমিটির প্রধান আরশাদুল আলম বলেন, ‘মণিরামপুরের তিন নেতাকে সাময়িকভাবে পদ স্থগিত করা হয়েছে।’ তবে সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।